ইরানের কাছে ৫ অসম্ভব দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, ভেনিজুয়েলা মডেলের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে ওমানের রাজধানী মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাঝেই ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবহরের বিশাল জমায়েত ঘটেছে। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় সাফল্যের ধার ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কাছে এমন পাঁচটি দাবি তুলেছে, যা পূরণ করা তেহরানের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলটি এক বিপজ্জনক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওয়াশিংটন তেহরানের সামনে যে পাঁচ দফা দাবি রেখেছে তার মধ্যে রয়েছে ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং সব পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির অবসান ঘটানোর দাবিও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সবশেষে, ইরানকে ইয়েমেন, ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে তাদের মিত্র বাহিনীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। একে কূটনীতির বদলে সরাসরি আল্টিমেটাম হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের অভিমত, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন ভেনিজুয়েলার মতো সামরিক ও কূটনৈতিক চাপে ইরানকেও হাঁটু গেড়াতে বাধ্য করা যাবে। কিন্তু এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডেভিড হার্স্ট। ইরান অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, কারণ তাদের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন মেরিন কর্পসের সমতুল্য শক্তিধর। এছাড়া ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো শক্তি রয়েছে, যা দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়। ফলে ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা সমগ্র অঞ্চলের জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনবে।

