বাংলাদেশের নির্বাচন কী বদলে দেবে নেপাল ও ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণ?
দক্ষিণ এশিয়ার আসন্ন নির্বাচনী বর্ষপঞ্জিতে বাংলাদেশের ভোটটি মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে। নেপালের সাধারণ নির্বাচন (৫ মার্চ) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা ভোট (মার্চ থেকে মে) যখন ঘনিয়ে এসেছে, তখন ঢাকার নির্বাচনের ফলাফল কেবল দেশের অভ্যন্তরেই নয়, পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক চিত্র পাল্টে দিতে পারে। রাজনৈতিক বয়ান ও আখ্যান যেখানে ভোটের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করছে, সেখানে বাংলাদেশের আগে ভোট হওয়াটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে জেন জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে ঢেউ উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তীব্র সামাজিক মেরুকরণ, বাড়তে থাকা ধর্মীয় কট্টরপন্থা এবং দুর্বল অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এই ভোটের ফলাফল কীভাবে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করে, তা নিয়ে রয়েছে সবার দৃষ্টি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর ফলাফল আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভিন্ন ইঙ্গিত দেবে। বিএনপির জয় হলে তা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় আধিপত্য টিকে থাকার প্রমাণ হবে। জামায়াতে ইসলামীর ভালো ফল অর্থনৈতিক ক্ষোভের মধ্যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উত্থান ঘটাতে পারে, যা অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শক্ত অবস্থান হবে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, যেখানে রাজপথের আন্দোলন নির্বাচনী শক্তিতে রূপ নেবে।
বাংলাদেশ ও নেপাল—দুই দেশেই তরুণদের রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা থাকলেও প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামো এবং অর্থনৈতিক বাধা তা রুখে দিচ্ছে। নেপালে প্রার্থীরা গোপনে প্রায় দুই কোটি রুপি খরচ করলেও বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই আইনি সীমার ১২ গুণ পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। এই অনানুষ্ঠানিক ব্যয় এবং দলীয় অভিজাতদের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে নতুন ও তরুণ প্রার্থীদের জন্য রাজনীতির দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা সুষ্ঠু গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

