রাশিয়ার জ্বালানি ও অর্থনীতিতে কঠিন আঘাত, ইইউ’র নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২০তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মস্কোর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জেরে এবার জ্বালানি, আর্থিক সেবা এবং বাণিজ্য—এই তিনটি প্রধান খাতকে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভাঙতে এবার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিল ব্রাসেলস। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল বহনকারী জাহাজগুলোর ওপর সম্পূর্ণ সামুদ্রিক সেবা নিষিধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর আরও ৪৩টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যা মোট নিষিদ্ধ জাহাজের সংখ্যা ৬৪০-এ নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এলএনজি ট্যাংকার এবং আইসব্রেকারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞার ফলে মস্কোর গ্যাস রপ্তানি প্রকল্পগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানির পাশাপাশি রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থাকে অস্থিশিল করতে আরও ২০টি আঞ্চলিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইইউ। এর ফলে বিকল্প অর্থপ্রদানের চ্যানেল তৈরি করা রাশিয়ার জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং বিভিন্ন ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেনের পথও রুদ্ধ করা হচ্ছে। রাশিয়ার সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্যে জড়িত তৃতীয় দেশের ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফন ডার লায়েন।
বাণিজ্য খাতেও নতুন করে বেশ কিছু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়া থেকে রাবার, ট্রাক্টর এবং সাইবার নিরাপত্তা সেবা রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা। সবমিলিয়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার সব রাস্তা বন্ধ করতেই এই বিস্তৃত প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

