বিতর্ক উপেক্ষা করে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক কেন্দ্র চালু করছে জাপান
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে জাপানে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুনরায় সচল হতে যাচ্ছে। কাশিয়াজাকি-কারিওয়া প্লান্টের প্রধান তাকেইউকি ইনাগাকি জানিয়েছেন, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি এই স্থাপনার একটি রিঅ্যাক্টর চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি চালুর চেষ্টার সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে অ্যালার্ম বেজে উঠলেও, বর্তমানে সব ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে রিঅ্যাক্টরটি নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার (টেপকো) পরিচালিত এই কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন আগামী ১৮ মার্চ বা তার পরবর্তী সময়ে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখানে মোট সাতটি রিঅ্যাক্টর রয়েছে, প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র একটি রিঅ্যাক্টর সক্রিয় করা হচ্ছে। ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা দুর্যোগের পর জাপান সব পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করে দিলেও, এখন জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে আনতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্যও এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে টেপকো।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিগাতা প্রিফেকচারে এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বাসিন্দা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর বিরোধিতা করছেন। ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকির কারণে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ২০০৭ সালের মতো শক্তিশালী ভূমিকম্প আবারও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই সব আপত্তি সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

