মার্কিন আগ্রাসন রুখতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়কটের ডাক
ওয়াশিংটন ডিসির আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডোনাল্ড আর্ল কলিন্স মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে দেশটি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি। আমেরিকার এই সামরিকবাদ ও বর্ণবাদী আগ্রাসন থামাতে তিনি বিশ্ববাসীকে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের অহিংস আন্দোলনের আদলে একটি সুসংগঠিত ও অর্থনৈতিক বয়কটের ডাক দিয়েছেন।
অধ্যাপক কলিন্স জানান, গত এক বছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকার দ্বিচারিতা, গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতি সমর্থন এবং মেক্সিকো, গ্রিনল্যান্ড ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নাইজেরিয়ায় বোমা হামলা এবং ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের অভিযান ওয়াশিংটনের আগ্রাসী মনোভঙ্গির প্রমাণ। দেশের অভ্যন্তরেও ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইমিগ্রেশন ও শুল্ক বিভাগের গুলিতে ক্যালিফোর্নিয়ার কিথ পোর্টার জুনিয়র এবং মিনেসোটার রেনে নিকোল গুডসহ তিন নাগরিকের প্রাণহানি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
কেবল প্রতিবাদ করা যথেষ্ট নয়, বরং মার্কিন কর্পোরেশন ও পণ্যের ওপর সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তিনি ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক এবং কোচেলা ও মেট গালার মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বর্জনের পাশাপাশি আমাজন, গুগল বা পালান্টিরের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোগত পরিবর্তন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

