এপস্টেইনের সাথে সখ্য: রাষ্ট্রদূত ম্যান্ডেলসনের পদত্যাগ, বিপাকে স্টারমার
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ও শ্রমিক দলের প্রভাবশালী নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন পদত্যাগ করেছেন। বিতর্কিত মার্কিন ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের সাথে তার গভীর ঘনিষ্ঠতা এবং আর্থিক লেনদেনের নতুন নথিপত্র ফাঁসের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। এ ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে ব্রিটিশ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার স্বীকার করেছেন যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে পাঠানোর সময় তিনি এপস্টেইনের সাথে তার বন্ধুত্বের কথা জানতেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, ম্যান্ডেলসন এই সম্পর্কের ন্যাক্কারজনক দিকগুলো এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তাকে ও তার দলকে বিভ্রান্ত করেছেন। ফাঁস হওয়া মার্কিন বিচার বিভাগের ইমেইলে দেখা গেছে, ২০১০ সালে ম্যান্ডেলসন ইউরোপীয় ব্যাংকের ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বেইল-আউট এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের পদত্যাগের মতো অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য আগাম এপস্টেইনকে জানিয়েছিলেন। এছাড়াও ব্যাংক রেকর্ডে ম্যান্ডেলসন ও তার সঙ্গীর অ্যাকাউন্টে এপস্টেইনের পক্ষ থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে।
ঘটনাটি এখন আইনি জটিলতায় পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ পুলিশ ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং সিভিল সার্ভিসকে ম্যান্ডেলসনের সব সরকারি কাজ ও এপস্টেইনের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি এটিকে প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাবোধের ‘চরম ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছে এবং অনেকে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন।

