বেইজিংয়ের হুমকি উপেক্ষা করেই বন্দর ইজারা বাতিলের পক্ষে পানামা
পানামা খালের দুই বন্দরের দখল নিতে চীনা কোম্পানিকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি তোপের মুখে পড়েছে মধ্য আমেরিকার এই রাষ্ট্রটি। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জবাবে পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো জানান, তারা বাইরের কোনো হুমকি মেনে চলবে না এবং নিজ দেশের আইনের শাসন ও আদালতের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনার অভিযোগ তুলে চীন এই পদক্ষেপের জন্য পানামাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মূল্য দিতে হবে বলে সরাসরি সতর্ক করেছিল।
পানামার সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি হংকংভিত্তিক জায়ান্ট ‘সি কে হাচিসন’-এর সাথে হওয়া বন্দর পরিচালনার চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। সরকার প্রধান মুলিনো এই রায়কে দেশের আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন এবং বিচার বিভাগের ওপর কার্যনির্বাহী বিভাগের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক ও করুণ’ আখ্যা দিয়েছে চীনা সরকারের হংকং বিষয়ক দপ্তর। ক্ষতিগ্রস্ত কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনি পথেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই টানাপোড়েন লাতিন আমেরিকায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চীনের এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে পানামার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মুলিনো।

