শেষ হলো মার্কিন-রুশ পারমাণবিক চুক্তি, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি
বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর থেকে সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের হাত ধরে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষই মোট ১ হাজার ৫৫০টি মোতায়েনকৃত ওয়ারহেড, ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান এবং ৮০০টি লঞ্চারের সীমা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে করোনা মহামারির পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চুক্তির অধীনে পারস্পরিক পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো সুরাহা না করেই জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষ হলে তা-ই হবে এবং তারা অচিরেই আরও একটি উন্নত চুক্তি করবেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বছরের জন্য স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে এই চুক্তির শর্ত মেনে চলার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই চুক্তি বাতিল হলে দুই দেশই নিজেদের পারমাণবিক সামর্থ্য বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকবে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। প্রযুক্তিগত জটিলতায় যদিও সাথে সাথে পরিবর্তন আসবে না, তবে এক বছরের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অস্ত্র মজুদ বাড়তে পারে। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে বিশ্ব নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য অশনি সংকেত।

