জিনগত গবেষণায় ইসলামি বিশ্বে শীর্ষে ইরান, বৈশ্বিক অগ্রগতি
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আণবিক ও জিনগত প্রযুক্তিতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ইরান। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়েব অব সায়েন্সের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানে ইসলামি বিশ্বের মধ্যে এই খাতে এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছে দেশটি। ট্রান্সফেকশন প্রযুক্তিতে ১ হাজার ৬৭টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী ১৪তম এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে তারা।
বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, জিন থেরাপি, ক্রিসপ্র (CRISPR) এবং আরএনএ ইন্টারফেরেন্স প্রযুক্তিতেও ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ইরান। বিশেষ করে জিন থেরাপিতে তারা বিশ্বে ১৫তম স্থানে রয়েছে। স্টেম সেল ও সেল থেরাপি পণ্যের সংখ্যা গত এক বছরে একটি থেকে বেড়ে পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে এই খাতে তাদের বৈশ্বিক অবস্থান ১২তম থেকে ৮ম স্থানে উন্নীত হয়েছে। তবে টিএলইএন এবং জিঙ্ক ফিঙ্গার নিউক্লিয়েজ প্রযুক্তিতে পাকিস্তানের পরেই তাদের অবস্থান দ্বিতীয়।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্সির কর্মকর্তা মোস্তাফা কানেয়ি জানিয়েছেন, আগামী মার্চ ২০২৬ সালের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ২০টি প্রযুক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA) রোগের ওষুধ ও ক্যানসার শনাক্তকরণ কিট তৈরির মাধ্যমে প্রায় ৪ কোটি ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। দেশটির সর্বোচ্চ লক্ষ্য হলো বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের তালিকায় স্থান করে নেওয়া এবং রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দূর করা। এছাড়া ন্যানোপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে তারা।

