খনিজ সম্পদ আর রক্তক্ষয়ী সংঘাত: বেলুচিস্তানে কেন ফিরছে না শান্তি?
পাকিস্তানের আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ জুড়ে থাকলেও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তান দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র ও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। গত ৩১ জানুয়ারি প্রদেশটির এক ডজনেরও বেশি শহরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমন্বিত হামলায় ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার পর সামরিক বাহিনীর পাল্টা অভিযানে নিহত হয়েছেন ১৫০ জনেরও বেশি সশস্ত্র বিদ্রোহী। স্বাধীনতার পর থেকে চলা এই সশস্ত্র লড়াই দীর্ঘ সময় ধরে ওঠানামা করলেও বর্তমানে তা ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ১৯৪৮ সালে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হওয়ার পর থেকেই এই বিদ্রোহের সূচনা। অনেক বেলুচ জাতীয়তাবাদী এই অন্তর্ভুক্তিকে জোরপূর্বক দাবি করে আসছেন। ১৯৫৮ সালে ‘ওয়ান ইউনিট’ স্কিম এবং সত্তরের দশকে নির্বাচিত প্রাদেশিক সরকার বরখাস্তের পর থেকে এ অঞ্চলে পাঁচ দফা বড় সংঘাত দেখা দেয়। ২০০৬ সালে জনপ্রিয় নেতা নবাব আকবর বুগতির মৃত্যুর পর থেকে শুরু হওয়া বর্তমান পঞ্চম দফার আন্দোলনে এখন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও নারীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাষ্ট্র এই অঞ্চলের গ্যাস ও খনিজ সম্পদ লুট করছে কিন্তু স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেই। ৬২ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর ও গোয়াদর বন্দর এলাকাটিকে ভূ-রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, যার ফলে চীনা নাগরিকরাও হামলার টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। পাকিস্তান ভারতের হাত রয়েছে দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেলুচিস্তানের বন্ধুর ভূখণ্ড ও জনবিচ্ছিন্ন পাহাড়ি এলাকা বিদ্রোহীদের জন্য সুবিধাজনক হওয়ায় কেবল সামরিক শক্তি প্রয়োগে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই অচলাবস্থা কাটাতে হলে রাজনৈতিক সংলাপ, গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি এবং অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন তারা।

