চিকেনস নেকে সুড়ঙ্গ রেল: প্রতিবেশী চাপে নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতের
সীমান্ত রাজনীতিতে টানাপো়ড়েন ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবার নিজেদের ভৌগোলিক দুর্বলতা দূর করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারত। দেশটির কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা দিয়েছেন, সিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় ৪০ কিলোমিটার লম্বা একটি পাতাল রেল নির্মাণ করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্কে যখন অস্থিরতা চলছে, তখন বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বের সাত ভগ্নি রাজ্য ও মূল ভূখণ্ডের একমাত্র সংযোগস্থল চিকেনস নেকের নিরাপত্তা জোরদারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ভৌগোলিকভাবে ওই অঞ্চলটি এতটাই সরু যে কোথাও এর প্রস্থ মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। যার চারপাশে রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান; আর মাত্র কয়েকশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান করছে চীন সীমান্ত।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে ভারতের বাকি অংশের সংযোগ সুসংহত রাখতে এই কৌশলগত করিডোরে ভূগর্ভস্থ রেললাইন স্থাপন এবং বিদ্যমান লাইনকে চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে। এনএফআর-এর জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের থ্রি মাইল হাট থেকে রাঙাপানি স্টেশন পর্যন্ত এই সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হবে, যা নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমতল থেকে প্রায় ২০-২৪ মিটার গভীরে এই রেললাইন স্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে করিডোরে মোট ছয়টি রেললাইন থাকবে—চারটি ভূমির ওপর এবং দুটি মাটির নিচে। এর একটি অংশ বাগডোগরার দিকে যাবে, যা ভারতের বিমান বাহিনীর জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই পথ অবরুদ্ধ হলে উত্তর-পূর্ব ভারত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, যা সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশটির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

