বিশ্বনেতাদের এক্স হ্যাক: নির্বাচনী আগে সাইবার নিরাপত্তায় ফাটল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, এর নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা আজ আর আড়াল থাকেনি। সারা বিশ্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অস্ত্র হিসেবে এখন সাইবার হামলা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে বিশ্বনেতাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল দখল করে জনমতের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এখন নতুন কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে ২০২০ সালে এমনই এক বড় সাইবার হামলার মুখোমুখি হয়েছিল এক্স (তৎকালীন টুইটার)। হ্যাকাররা একযোগে নিয়ন্ত্রণ নেয় জো বাইডেন, বারাক ওবামা, ইলন মাস্ক এবং বিল গেটসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টের। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলার আত্মসাৎ করতে সক্ষম হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে কর্তৃপক্ষের এবং এ সময় সব ভেরিফাইড ব্যবহারকারীর পোস্ট করার অধিকার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে শুধু প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নয়, নিরাপত্তায় অবহেলাও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। ডাচ গবেষক ভিক্টর গেভার্স দাবি করেছিলেন, কোনো জটিল সফটওয়্যার ছাড়াই তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের পাসওয়ার্ড ছিল ‘yourefired’ এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের আগে তা পরিবর্তন করে রাখা হয়েছিল ‘maga2020!’। এই ঘটনার পরই ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টে দ্বি-স্তরের নিরাপত্তা বা ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ চালু করা হয়।
নরেন্দ্র মোদী, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ থেকে শুরু করে ওবামা বা বাইডেন—বিশ্বের কোনো প্রভাবশালী নেতাই এই সাইবার হুমকির বাইরে নন। এসব ঘটনা সামনে আনে একটি আশঙ্কাজনক বাস্তবতা, যেখানে নির্বাচনী গণতন্ত্র ও ভোটারদের মতামতের ওপর প্রভাব ফেলার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।

