যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানজুড়ে আতঙ্ক, বাড়িতে খাবার মজুদ
গত শুক্রবার থেকে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন গুজবে দেশটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি পর্যায়ে আলোচনার কথা বলা হলেও মানুষ নিরাপদ থাকতে জানালা বন্ধ করে দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি মজুদ করছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক বহর মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আশঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।
তেহরানের বাসিন্দারা এই পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। এক ৪৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী জানান, তিনি রাতভর ঘুমাতে পারেননি, শুধু বিস্ফোরণের শব্দ শোনার অপেক্ষায় ছিলেন। অন্যদিকে শোহরেহ নামের এক নারী বলেন, মানুষের মধ্যে এমন আচরণ দেখা যাচ্ছে যেন তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিকের হত্যাকাণ্ডে হতাশ হয়ে অনেকে এখন বিভ্রান্তিতে ভুগছেন। ৩২ বছর বয়সী সরকারি কর্মচারী আরজু জানান, তার প্রতিবেশীরা জানালা আটকে দিয়ে বলেছে, বোমা পড়লে শাসক বা বিরোধী—কারো মধ্যে আর কোনো পার্থক্য থাকবে না।
দেশে ইন্টারনেট সেবা ফিরে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেঁচে থাকার নানা পরামর্শ ছড়িয়ে পড়ছে। ফারসি ভাষার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ১০ দিনের খাবার মজুদ রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং বিস্ফোরণের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের উপায় নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এই আতঙ্ক কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৪০ লাখ ইরানি প্রবাসীও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তারা আবারও ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন, যাতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

