এপস্টেইনের নথিতে অভিযোগ: খাশোগি ছিলেন আমিরাতের গুপ্তচর
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইনের গোপন নথিপত্রে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যার পর এপস্টেইন তার পরিচিতজনদের সাথে আদান-প্রদান করা বার্তায় দাবি করেছিলেন, নিহত এই সাংবাদিক আসলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের একজন গুপ্তচর ছিলেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পূর্বেই নিশ্চিত করেছিল যে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এপস্টেইনের নথিতে দেখা যায়, হত্যার পরপরই তিনি তার এক পরিচিত আল রাশিদকে জানান, এটি একটি ‘ব্যর্থ গোপন অভিযান’ বা ‘ফাঁদ’ হতে পারে এবং খাশোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেন। আল রাশিদের সাথে কথোপকথনে এপস্টেইন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, এমবিজেড কি তাকে (খাশোগিকে) নিয়োগ করেছিলেন? জবাবে আল রাশিদ এই ধারণার সাথে একমত পোষণ করেন এবং বলেন যে সঠিক তথ্যটি খুবই বুদ্ধিমত্তার সাথে এবং দ্রুত ফাঁস করা হয়েছে, যা এখন একটি ‘মিডিয়া যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলেও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সৌদি যুবরাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে রিয়াদ বড় ধরনের কোনো প্রতিকূলতার মুখে পড়েনি। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, খাশোগির গুপ্তচর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর আলোচনার কিছুক্ষণের মধ্যেই এপস্টেইন আমিরাতের শাসকের একটি ‘জরুরি’ বৈঠকের ডাক পান এবং পরদিন সকালেই তার সাথে দেখা করার পরিকল্পনা করেন।

