মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ: ইরানে হামলার সম্ভাবনা, সতর্ক আরব বিশ্ব
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আজ রোববার (১ জানুয়ারি) থেকেই শুরু হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ওভাল অফিসে বিবৃতি দিয়ে ইরানের দিকে মার্কিন নৌবহর এগিয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়, বরং ‘শিরচ্ছেদ’ নীতির মাধ্যমে ইরানের সরকার পতন ঘটানো।
সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইআরজিসি বা ইরানের বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ নেতৃত্ব সরিয়ে দেওয়া গেলে সেখানে সরকার পরিবর্তন সম্ভব হবে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার জন্য অধীর আগ্রহী এবং তিনি ট্রাম্পকে তেহরানে নতুন সরকার গঠনে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আরব মিত্ররা এই পদক্ষেপে একমত নয়। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক আগ্রাসনে তারা তাদের আকাশসীমা বা সমুদ্রসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।
পাল্টা জবাবে ইরান কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আমেরিকা যদি ধরে নেয় অল্প সময়ের মধ্যে তারা যুদ্ধ শেষ করতে পারবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ও তাদের ঘাঁটিকে টার্গেট করে অন্তত ৫০০ সেনা হত্যার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলমান; ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইস্তাম্বুলে জানিয়েছেন, তারা আলোচনায় রাজি হলেও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

