ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, লক্ষ্য সরকার পতন
যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে আজ রোববার (১ জানুয়ারি) থেকেই সুপরিকল্পিত এই হামলা শুরু করতে পারেন। তবে এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়, বরং ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তন। ওয়াশিংটনের যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীরা মনে করছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাতে পারলে সেখানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকারের পতন ঘটবে।
এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তেহরানে পশ্চিমপন্থী সরকার গঠনে তার দেশের সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ট্রাম্প বিশাল মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর মধ্যেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানে তারা তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। অপরদিকে, ইস্তাম্বুলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, হুমকির মুখে তারা কোনো আপস করবেন না এবং দেশের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জবাবে ইরান নজিরবিহীন পাল্টা হুমকি দিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দুই ঘণ্টায় শেষ হবে এমন ধারণা যারা করছে তারা ভুল স্বর্গে বাস করছে। তিনি জানান, হামলা হলে তা সারা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ও তাদের ঘাঁটি ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি টার্গেটে পরিণত হবে। ইরানের সামরিক বাহিনী এবার সীমিত প্রতিক্রিয়ার বদলে অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

