মধ্যপ্রাচ্যে আবার যুদ্ধের মেঘ, ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২:০৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে আবার যুদ্ধের মেঘ, ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে এক বিশাল সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছেন, যা আজ রোববার (১ জানুয়ারি) থেকেই শুরু হতে পারে। গত শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ট্রাম্প নিজেই ইরানের দিকে মার্কিন নৌবহর এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল পরমাণু বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা নয়, বরং ‘শিরচ্ছেদ’ কৌশলে ইরানের সরকার পরিবর্তন বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটানো।

মার্কিন যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীরা বিশ্বাস করছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব সরিয়ে দিতে পারলে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকারের পতন ঘটবে। এক সাবেক শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তেহরানে পশ্চিমপন্থী সরকার গঠনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

সম্ভাব্য মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে ইরানও নজিরবিহীন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আক্রমিনিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকানরা যদি মনে করে মাত্র দুই ঘণ্টার অপারেশন চালিয়ে টুইট করে যুদ্ধ শেষ করবে, তবে তারা ভুল স্বর্গে বাস করছে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি টার্গেটে পরিণত হবে। ‘সীমিত প্রতিক্রিয়ার’ পুরোনো নীতি বাদ দিয়ে এবার অন্তত ৫০০ মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে কূটনৈতিক সমাধানের শেষ চেষ্টাও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইস্তাম্বুলে তুর্কি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও হুমকির মুখে নতি স্বীকার করবেন না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। একদিকে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে যুদ্ধ ঠেকানোর চেষ্টা, অন্যদিকে ট্রাম্পের রণতরীর অগ্রসর হওয়ায় পুরো অঞ্চল এখন আগ্নেয়গিরির মুখে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...