এপস্টেইন ডসিয়ার ফাঁস: মাস্ক-ট্রাম্প ঘনিষ্ঠদের নামে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে চলা দীর্ঘ তদন্তের ৩০ লাখ পৃষ্ঠার এক বিশাল গোপন নথি প্রকাশ করেছে। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। প্রকাশিত এই নথিতে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ফাঁস হওয়া ইমেইল বার্তায় দেখা গেছে, ২০১২ সালে এপস্টেইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাওয়ার জন্য ইলন মাস্ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং মাস্ক সেখানকার পার্টির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকও এপস্টেইনের দ্বীপে সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন, যা তিনি পূর্বে অস্বীকার করেছিলেন। এছাড়াও ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে এপস্টেইনের আর্থিক ও সামাজিক যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে।
এই নথি প্রকাশের ফলে যদিও বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধরের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, তবে এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের পরিচয় আড়াল করা হলেও তাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এই নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েও ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘদিন গড়িমসি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০ বছরের তদন্তের এই নথিপত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অপরাধের প্রমাণ না মিললেও, স্পর্শকাতর তথ্য গোপন রাখতে শিশু নির্যাতন ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।

