এপস্টেইনের গোপন নথি ফাঁস: ইলন মাস্ক ও রাজপরিবারের নাম
বিতর্কিত যৌন কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা জেফরি এপস্টেইন মামলার তদন্তে প্রাপ্ত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি গোপন নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নথি প্রকাশের কথা জানান। গত দুই দশকের তদন্তে সংগৃহীত এসব নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এপস্টেইনের সাথে যোগসাজশের নতুন নতুন তথ্য উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, ২০১২ সালে এপস্টেইন ইমেইলের মাধ্যমে টেসলা প্রধান ইলন মাস্ককে তার ব্যক্তিগত দ্বীপে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মাস্ক সেখানে ‘সবচেয়ে উন্মাদনাপূর্ণ পার্টি’ কবে হবে তা জানতে চেয়েছিলেন বলেও তথ্য মিলেছে। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের এপস্টেইনের দ্বীপে সফরের পরিকল্পনার প্রমাণও পাওয়া গেছে, অথচ তিনি আগে এপস্টেইনের সাথে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। একইসাথে, ২০১০ সালে ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের নিউ ইয়র্কের বাসভবনে এক নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন এবং সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠদের অ্যাকাউন্টে এপস্টেইনের বিপুল অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিও নথিতে স্পষ্ট হয়েছে।
তবে নথি প্রকাশ নিয়ে এপস্টেইনের হাতে নির্যাতিতরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের নাম ও পরিচয় প্রকাশিত হলেও অনেক ক্ষমতাশালী অভিযুক্তের নাম আড়াল করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারণায় এই ফাইল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও ক্ষমতায় এসে দীর্ঘদিন গড়িমসি করায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দলের মধ্যেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। বিচার বিভাগ দাবি করেছে যে, এই নথিতে ট্রাম্পের সাথে এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে স্বচ্ছতা আইনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির মুখোশ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।

