যুদ্ধের গতি বদলাতে জেলেনস্কির নতুন রণকৌশল, লক্ষ্য মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা
ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে নতুন এক আক্রমণাত্মক কৌশল ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মস্কোকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে হলে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫০ হাজার রুশ সেনাকে নির্মূল করতে হবে। জেলেনস্কির বিশ্বাস, এই হতাহতের সংখ্যাটি রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা ভর্তির সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেলে ক্রেমলিন শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হবে।
যুদ্ধক্ষেত্রে এমন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে ড্রোন প্রযুক্তিকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে কিয়েভ। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের ৮০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হচ্ছে। এই সক্ষমতা আরও বাড়াতে ড্রোন প্রযুক্তিতে দক্ষ মিখাইলো ফেদোরভকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ড্রোন অপারেটরদের নির্ভুলতা বাড়াতে ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ ও আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ রুশ সেনা হতাহত হয়েছে এবং গত ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে।
সামরিক সাফল্যের মধ্যেই দেশটির বেসামরিক এলাকায় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বারবার আঘাতের ফলে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আবুধাবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় চলা যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো দোনেৎস্ক ইস্যুতে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, কেবল ন্যাটোর ওপর ভর করে বসে থাকার সময় শেষ, রুশ আগ্রাসন রুখতে এখন নিজেদের শক্তিতেই কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

