জাতিসংঘের নগদ তহবিল ফুরিয়ে আসছে: জুলাইয়ের মধ্যেই মারাত্মক আর্থিক ধসের শঙ্কা
সদস্য দেশগুলোর বিপুল বকেয়া অর্থ ও বর্তমান আর্থিক কাঠামোর কারণে এক গুরুতর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি সপ্তাহের শুরুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের হাতে নগদ অর্থ ফুরিয়ে যেতে পারে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সময়মতো পূর্ণাঙ্গ চাঁদা না পেলে বিশ্ব সংস্থাটির কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চাঁদা পরিশোধের বিষয়টি এখন ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্ত এই সংকটকে আরও প্রকট করেছে। জাতিসংঘের মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দেয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০ শতাংশ দেয় চীন। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার চাঁদা বকেয়া পড়ে আছে। এর মধ্যে ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করেছে।
চলতি মাসে জাতিসংঘ ২০২৬ সালের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। তবুও গুতেরেস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই সংস্থার তহবিল শেষ হয়ে যেতে পারে। তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি জাতিসংঘের আর্থিক নিয়ম সংস্কারে সম্মত হওয়ার অথবা অবিলম্বে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন।

