চরম অর্থসংকটে জাতিসংঘ, জুলাইয়ের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে রিজার্ভ
সদস্য দেশগুলোর বিপুল পরিমাণ বকেয়া চাঁদার কারণে এক মারাত্মক আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সংস্থাটির তহবিলে নগদ অর্থের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার করা না হলে বা সময়মতো চাঁদা পরিশোধ না করলে সংস্থার কার্যক্রম চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
গত শুক্রবার জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক জানান, চাঁদা পরিশোধের বিষয়টি এখন ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ অবস্থায় পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ মোট ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে। এই সংকটের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থায়ন কমানোর সিদ্ধান্তও প্রভাব ফেলেছে, যারা জাতিসংঘসহ ৬৬টি সংস্থা থেকে সরে এসে ‘বোর্ড অব পিস’ নামে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। জাতিসংঘের মূল বাজেটের ২২ শতাংশ দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং ২০ শতাংশ দেয় চীন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করলেও তা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ কম। তবুও গুতেরেস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই তহবিলের রিজার্ভ শেষ হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় সংস্থার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে অর্থ ব্যবস্থাপনার পুনর্গঠন এবং সদস্যদের নিয়মিত অর্থ প্রদানের বিকল্প নেই।

