জরুরি চিঠিতে গুতেরেস, বকেয়া না মেটালে জুলাইতে বন্ধ হবে জাতিসংঘ
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, বকেয়া চাঁদার বিপুল চাপ আর বর্তমান আর্থিক কাঠামোর কারণে বিশ্ব সংস্থাটি এখন ‘মারাত্মক আর্থিক ধসের’ দ্বারপ্রান্তে। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়েই তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি সদস্য দেশগুলোকে হয় তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করতে অথবা বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থা সংস্কারে সম্মত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক জানিয়েছেন, চাঁদা পরিশোধের বিষয়টি এখন ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ অবস্থায় পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ এ বছরের নির্ধারিত পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহার ও কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। জিডিপির ভিত্তিতে চাঁদা নির্ধারণের নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ২২ শতাংশ এবং চীন ২০ শতাংশ অর্থ দেয়। তবে গত বছর শেষে মোট ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার বকেয়া পড়েছিল।
এরই মধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ, যা আগের বছরের চেয়ে ৭ শতাংশ কম। কিন্তু বকেয়া অর্থের কারণে তাৎক্ষণিক ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। মহাসচিব গুতেরেস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সদস্যরা এখনই পাওনা টাকা না দিলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই হাতে থাকা নগদ অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি হলে শান্তিরক্ষা মিশন ও মানবিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

