হুমকি নয়, সমতার ভিত্তিতেই আলোচনায় রাজি ইরান
পশ্চিমা বিশ্বের চাপ ও নৌ-মহড়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সমতাভিত্তিক’ আলোচনায় বসতে আগ্রহী ইরান। তবে কোনো ধরনের চাপ বা হুমকির মুখে আলোচনায় যাওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) তুরস্ক সফরকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অবস্থানের কথা জানান।
ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কোনোভাবেই আপস করার বিষয় নয় বলে জোর দিয়ে জানিয়েছেন আরাগচি। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের নিরাপত্তা অন্য কারও আলোচ্য বিষয় নয় এবং প্রয়োজনে এই সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা এবং তেহরানের উদ্দেশ্যে একটি সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানাচ্ছে, যা অবশ্য অস্বীকার করে আসছে তেহরান।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে অঞ্চলটির শান্তি ফেরাতে মধ্যস্থতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে চান। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মনে করেন, পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হলে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ সুগম হতে পারে। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।

