গাজার কবরস্থান ধ্বংস: মৃতদের অবমাননায় ইসরায়েল, চলছে বিশ্বজুড়ে নিন্দা
উত্তর গাজার একটি কবরস্থান থেকে জিম্মি রন গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের অভিযানকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে এই অভিযানের ধ্বংসযজ্ঞের ভিডিও ধরা পড়েছে, যেখানে দেখা যায় বুলডোজার দিয়ে কবর তছনছ করার পর ওই স্থানে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলি সেনারা গান গেয়ে উল্লাস করছে। এই তথাকথিত উদ্ধার অভিযানের সময় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক কবর গুঁড়িয়ে দেওয়ায় স্বজনহারা পরিবারগুলোকে ছিন্নভিন্ন লাশ নিয়ে আবারও কবর দিতে হয়েছে।
পশ্চিমা মিডিয়া একে ইসরায়েলের জন্য ‘জাতীয় নিরাময়ের মুহূর্ত’ বলে প্রচার করলেও, আন্তর্জাতিক আইনে মৃতদেহ ও কবরস্থান রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত স্যাটেলাইট ইমেজে গাজায় অন্তত ১৬টি কবরস্থান ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে। ইসরায়েল দাবি করলেও যে হামাস কবরস্থান সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, তথ্য বলে ভিন্ন কথা; পুরো কবরস্থান গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছে তেল আবিব। একই ছবি দেখা গেছে পশ্চিম তীরের মুসলিম ও খ্রিস্টান কবরস্থানেও, যা মৃত্যুর পরেও ফিলিস্তিনিদের মর্যাদাহানির পরিকল্পিত কৌশল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ফিলিস্তিনি লেখক আমাল আবু সাইফ জানান, ইসরায়েলি বন্দিদের দাফন নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় যেভাবে আবেগময় প্রতিবেদন প্রচার হয়, ফিলিস্তিনিদের কবর ধ্বংস ও ছিন্নভিন্ন মরদেহ নিয়ে সেই তুলনায় নীরবতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৬৭ সাল থেকে অনেক ফিলিস্তিনির মরদেহ ‘দর কষাকষির মাধ্যম’ হিসেবে আটকে রেখেছে ইসরায়েল, যা ২০১৯ সালে তাদের সুপ্রিম কোর্ট বৈধও ঘোষণা করেছে। এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু যুদ্ধাপরাধই নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের স্মৃতি ও অস্তিত্ব মুছে ফেলার এক মহড়ার অংশ বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

