স্টারমারের চীন ঘনিষ্ঠতায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, ব্রিটেনকে ‘বিপজ্জনক’ সতর্কতা
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চীন সফর এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টাকে একহারা ভাষায় ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন থেকে এমন কঠোর বার্তা আসার মুহূর্তেই লন্ডন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে জটিলতার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রায় আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তিন ঘণ্টাব্যাপী ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন স্টারমার। গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার লক্ষ্যে আলোচনা হয়। ব্রিটিশ পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, শুল্ক হ্রাস এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়ে স্টারমার এই সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
তবে স্টারমারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগে সন্তুষ্ট নন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা লন্ডনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফরের জেরে ট্রাম্প যেমন শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন, ব্রিটেনের ক্ষেত্রেও তিনি একই রকম কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না এবং চীনে রপ্তানি কঠিন হওয়ায় ব্রিটেন এতে সফল হবে না বলে মনে করছেন।
মার্কিন চাপ সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় স্টারমার জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অটুট রেখেই বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব। বর্তমানে তিনি টোকিও সফরে রয়েছেন, যেখানে জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন। ট্রাম্পের অনিশ্চিত পররাষ্ট্রনীতির মধ্যেই চীনের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্য, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে টানাপোড়েনের আশঙ্কা তৈরি করছে।

