বিজ্ঞাপন

মিয়ানমার সীমান্তের কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৫ এএম
মিয়ানমার সীমান্তের কুখ্যাত মিং পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী শহর লাউককাইংয়ে কুখ্যাত অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনার দায়ে ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। গত সেপ্টেম্বরে আদালতের রায়ের পর অল্প সময়ের মধ্যেই এই সাজা কার্যকর করা হয়। চীনা নাগরিকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এই পরিবারটির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন।

২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের লাউককাইং শহরে মিং, বাউ, ওয়েই এবং লিউ—এই চার প্রভাবশালী পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। দেশটির সামরিক জান্তার মদদে তারা প্রথমে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিলেও পরবর্তীতে ক্যাসিনো ও অনলাইন প্রতারণার এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তাদের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলায়’ হাজার হাজার মানুষকে আটকে রেখে ‘পিগ-বাচারিং’ স্ক্যামের মাধ্যমে প্রতারণা করা হতো এবং প্রতিদিন চলত নির্যাতন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টাকারী কয়েকজন চীনা নাগরিককে হত্যা করার পর বেইজিং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়।

বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে এই চার পরিবারের প্রধানদের গ্রেপ্তার করে চীনের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জেরায় মিং পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেছেন, ক্ষমতার প্রদর্শনের জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই একজনকে হত্যা করেছিলেন। এছাড়া পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। চীন এই নৃশংসতার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে তাদের এই কঠোর শাস্তির যৌক্তিকতা তুলে ধরেছে।

মিং পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও বাউ পরিবারের পাঁচজন এখনো ফাঁসির অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। এই অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্যের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চীন থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপরও চাপ প্রয়োগ করছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় বড় স্ক্যাম সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও এই অপরাধ মিয়ানমারের নতুন দুর্গম অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...