বিজ্ঞাপন

ফ্রান্সে বিলুপ্ত হচ্ছে ‘বৈবাহিক যৌন বাধ্যবাধকতা’, একত্রে থাকা মানেই সম্মতি নয়

প্রাইম বার্তা অনলাইন
৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৩ এএম
ফ্রান্সে বিলুপ্ত হচ্ছে ‘বৈবাহিক যৌন বাধ্যবাধকতা’, একত্রে থাকা মানেই সম্মতি নয়

বিবাহিত জীবনে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা বা তথাকথিত ‘বৈবাহিক অধিকার’ বিলুপ্ত করলো ফ্রান্স। গত ২৮ জানুয়ারি, বুধবার দেশটির জাতীয় পরিষদে এই ঐতিহাসিক বিলটি অনুমোদন লাভ করেছে। এর ফলে এখন থেকে স্বামী-স্ত্রীর একসাথে বসবাস করাকে আর যৌন সম্মতির প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটলে কেউ যৌন সম্পর্কে অস্বীকার করায় আর ‘দোষী’ হিসেবে গণ্য হবেন না।

এই নতুন আইনের অধীনে দেওয়ানি বিধিতে একটি নতুন ধারা সংযুক্ত করা হচ্ছে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হবে যে, একই ছাদের নিচে বসবাসের অর্থ এই নয় যে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক মিলনে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যযুগীয় গির্জার আইনের প্রভাবে ‘কনজুগাল ডিউটি’ বা স্বামী-স্ত্রীর যৌন কর্তব্যের ধারণাটি ফরাসি সমাজে টিকে ছিল। ২০১৯ সালে এক নারীকে যৌন সম্পর্কে অস্বীকার করায় বিবাহবিচ্ছেদে দোষী সাব্যস্ত করার ঘটনায় ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত ফ্রান্সের সমালোচনা করেছিল, যা এই আইন সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিলটির প্রস্তাবক এমপি মারি-শার্লট গারিন জানিয়েছেন, বিয়ের পর সম্মতি চিরস্থায়ী হয়ে যায় না এবং এটি নারীর শরীরের ওপর আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সে আলোচিত ‘জিজেল পেলিকট’ গণধর্ষণ মামলার পর বৈবাহিক সম্পর্কে সম্মতির বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছিল। যদিও ১৯৯০ সাল থেকেই দেশটিতে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, তবে আইনের অস্পষ্টতা ছিল। গত নভেম্বরে ধর্ষণের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, মৌন থাকা বা কোনো প্রতিক্রিয়া না দেওয়া কখনোই সম্মতি বলে গণ্য হবে না। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দম্পতিদের সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শারীরিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাইছে ফ্রান্স সরকার।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...