যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রস্তুত ইরান: তাৎক্ষণিক জবাবের হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য হামলার হুমকি এবং পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর মোতায়েনের মধ্যেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানান, আমেরিকার যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনের জবাব অত্যন্ত দ্রুত এবং শক্তিশালী হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শত্রুর ভুল হিসাবের কারণে সৃষ্ট কোনো আগ্রাসনের মুখোমুখি হলে তেহরান বিনা দেরিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
সামরিক মুখপাত্র মার্কিন নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ওয়াশিংটন। তিনি গত বছর জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ১২ দিনের সংঘাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সেই সময় তেহরানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে তাদের সামরিক সক্ষমতা। আক্রমণের পরিবর্তে জাতীয় ঐক্যই বেশি জোরদার হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, গতবারের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনী—সব খাতেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মেরামত করে নতুন অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে।
আকরামিনিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌশক্তি প্রদর্শনকে ‘গানবোট কূটনীতি’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করে দেন যে, আধুনিক যুদ্ধে শুধুমাত্র যুদ্ধজাহাজই কার্যকর নয়। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অঞ্চলটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করে, তবে তাদের জন্য পরিণতি মারাত্মক হতে পারে এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পুরো অঞ্চলই ইরানের হাইপারসনিক মিসাইলের টার্গেটে পরিণত হবে।

