হীরা ও ব্যাগ ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সাবেক ফার্স্ট লেডির কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক ফার্স্ট লেডিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী কিম কন হি বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ব্র্যান্ডেড ব্যাগ এবং হীরার গয়না গ্রহণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ মাসের সাজা পেয়েছেন। বুধবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ৫২ বছর বয়সী কিম ওই সংগঠনের কাছ থেকে ৫৬ হাজার ডলার সমমূল্যের উপহার নেন। উপহারের তালিকায় ছিল মহামূল্যবান হীরার নেকলেস এবং একাধিক শ্যানেল ব্যাগ। বিচারক উ ইন-সুং রায়ে উল্লেখ করেন, পদমর্যাদার অপব্যবহার করে কিম নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন। তিনি বলেন, যত উঁচু পদে হোক, দায়িত্বশীল আচরণ করা বাধ্যতামূলক, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগত সাজসজ্জার প্রতি বেশি মনোযোগী ছিলেন। এর আগে ইউন সুক ইওলও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন।
আদালত কিমকে ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ওন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং হীরার নেকলেসটি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ জারি করেছেন। তবে শেয়ারমূল্য কারসাজি এবং বিনামূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণের অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর কিম বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত তিনি বিনয়ের সাথে মেনে নিচ্ছেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। যদিও চার্চের অনুসারীদের দলে অন্তর্ভুক্তি এবং চাকরি বিনিময়ে উপহার গ্রহণের অন্যান্য মামলার শুনানি এখনো বাকি রয়েছে।

