হরমুজে ইরানের সামরিক মহড়া, বন্ধ আকাশসীমা ও উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার জেরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তিন দিনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই ‘লাইভ ড্রিল’ বা সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চলবে আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত। এরই মধ্যে ওই এলাকার আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহড়া এলাকার পাঁচ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের বেসামরিক ও সামরিক বিমান ওড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালীতে এমন সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মোতায়েন করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, একটি সুন্দর নৌবহর পাঠানোর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে একটি সমঝোতা হবে। পেন্টাগনও এ অঞ্চলে যুদ্ধবিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিবেশী কোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সহযোগিতা করলে তাকে সরাসরি শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার দেশ সুরক্ষার বিষয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। ইরান হামলা করলে তারা এমন শক্তির সাথে জবাব দেবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। অপরদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে যে তাদের ভূমি বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনকেই তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ বলে মনে করবে এবং কঠোর জবাব দেবেন। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে এখন চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।

