বেসামরিক চাকরির ফাঁদে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশিরা
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অনুসন্ধানে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে, রাশিয়ায় বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি যুবকদের জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে নামানো হচ্ছে। চক্রটি লক্ষ্মীপুরের মতো এলাকা থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করে মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখালেও গন্তব্যে পৌঁছে তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করলে তাদের দীর্ঘমেয়াদের কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। ভারত, নেপাল ও আফ্রিকার নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশিদেরও এই পাচারকাণ্ডের শিকার হতে দেখা গেছে।
লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজের আশায় রাশিয়ায় গেলেও সেখানে তাকে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মস্কোতে পৌঁছানোর পর রুশ ভাষায় লেখা নথিপত্রে সই করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে দেখা যায় সামরিক চুক্তি। পরে তাকে ড্রোন যুদ্ধ ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারিতে ঠেলে দেওয়া হয়। আরেক ভুক্তভোগী মোহান মিয়াজি জানান, ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হলেও যুদ্ধে পাঠানো হয়। রুশ কর্মকর্তারা তাদের জানান, এজেন্টরা টাকার বিনিময়ে তাদের বিক্রি করে দিয়েছেন। কাজ না করলে ১০ বছরের জেল ও নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় তাদের।
অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ড্রির কর্মী হিসেবে কাজের জন্য রাশিয়ায় যাওয়া আজগর হোসেনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, স্বামীকে যুদ্ধে পাঠানোর খবর পাওয়ার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ব্র্যাকের তদন্তে ১০ জন নিখোঁজ শ্রমিকের সন্ধান মিলেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, দুই থেকে তিন স্তরের দালালচক্র এই পাচারের সাথে জড়িত। পুলিশের তদন্তকারীদের ধারণা, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি এই যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন। মানব পাচারকারী এই চক্রটি শ্রমিকদের কোনো আর্থিক সুবিধা না দিয়েই মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে।

