সেনাসমর্থিত দলের জয়ের দাবিতে মিয়ানমারে নির্বাচন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) দেশটির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার দাবি করেছে। ২০২১ সালে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পথ খুলতে পারে। সাবেক জেনারেলের নেতৃত্বাধীন ইউএসডিপির এই জয় আগে থেকেই সম্ভাব্য ছিল, কারণ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং ভিন্নমত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকায় সশস্ত্র বাহিনী ও তাদের পছন্দের দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। সমালোচকদের মতে, সামরিক সরকারের আয়োজিত এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, বরং ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলকারীদের শাসনকে বৈধতা দানের একটি প্রচেষ্টা মাত্র। সেনা অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা মিয়ানমারকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
২৮ ডিসেম্বর, ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি – এই তিন ধাপে মিয়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ৬৭টিতে ভোট হয়নি, যেগুলো মূলত সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে ৬৬৪ সদস্যের জাতীয় পার্লামেন্টে আসনের সংখ্যা কমে ৫৮৬-এ দাঁড়িয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক আইনসভার আসনের জন্য ৫৭টি রাজনৈতিক দলের ৪ হাজার ৮০০-এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যদিও এর মধ্যে মাত্র ছয়টি দল সারা দেশে প্রার্থী দিয়েছিল।

