আর্জেন্টিনায় হঠাৎ মার্কিন দলের সফর, নৌঘাঁটির আশঙ্কায় বিরোধীরা
দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অ্যান্টার্কটিকা লাগোয়া শহর উশুয়াইয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দলের হঠাৎ আগমন ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সোমবার ২৬ জানুয়ারি, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি বিমান তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশের রাজধানীতে অবতরণ করলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সতর্ক হয়ে ওঠে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হ্যাভিয়ের মিলেই এই অঞ্চলে যৌথ নৌ-ঘাঁটি স্থাপনের চক্রান্ত করছেন বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা।
বুয়েনস এইরেসের মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের ‘হাউস কমিটি অন এনার্জি অ্যান্ড কমার্স’-এর একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল ওই সফরে এসেছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর বোয়িং সি-৪০ ক্লিপার বিমানে করে প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলের ওই শহরে পৌঁছান মার্কিন আইনপ্রণেতারা। সফরকালে তারা আর্জেন্টিনার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিবেশগত অবক্ষয়, খনি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর আগে আলবার্তো ফের্নান্দেজের সময়েও মার্কিন প্রতিনিধি লরা রিচার্ডসন আর্জেন্টিনা সফর করেছিলেন।
তবে এই সফর নিয়ে তৈরি হওয়া ‘অনিশ্চয়তা’র কথা জানিয়েছেন তিয়েরা দেল ফুয়েগো প্রদেশের আইনি সচিব এমিলিয়ানো ফোসাত্তো। তিনি অভিযোগ করেন, এই সফরের আগে বা পরে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এক সাক্ষাৎকারে ফোসাত্তো বলেন, অ্যান্টার্কটিকার প্রবেশদ্বার হিসেবে উশুয়াইয়া বন্দরের ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও পর্যটন নৌপথ। তাই এই সফরের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিরোধীদের মতে, এটি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্বার্থেরই ইঙ্গিত।

