মক্কায় চালু হলো বৈদ্যুতিক বাস সার্ভিস: হজযাত্রীদের সুবিধার নতুন দিগন্ত
মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈদ্যুতিক বাস র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম চালু করেছে সৌদি আরব। ‘মাসার বিআরটি’ নামে পরিচিত এই আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাটি ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের পূর্বেই সম্পূর্ণ কার্যক্রমে আসায় হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব হবে। ইলেক্ট্রোমিন কোম্পানির দায়িত্বে পরিচালিত এই বাসগুলো মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে যাত্রীদের দ্রুত ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করবে।
মাসার বিআরটি প্রকল্পের আওতায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে, যা হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে স্টেশনকে মসজিদুল হারামের আশপাশের কেন্দ্রীয় এলাকার সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বৈদ্যুতিক বাসগুলো নির্ধারিত আলাদা লেনে চলাচল করবে, ফলে এগুলোকে সাধারণ যানজটের মধ্যে পড়তে হবে না। এই আধুনিক বাস বহরে রয়েছে উচ্চক্ষমতার শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ওয়াই-ফাই সুবিধা, মোবাইল চার্জের জন্য ইউএসবি পোর্ট এবং বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন ‘নিলিং’ বাস, যা নিচু হয়ে যাতে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম যাত্রীরা সহজেই উঠানামা করতে পারেন। এছাড়াও একটি বুদ্ধিমান পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে বাসের আগমনের সময় জানানো হবে এবং যাত্রীরা স্মার্টফোন অথবা টিকিট ভেন্ডিং মেশিনের মাধ্যমে সহজেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পটি একদিকে যেমন পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করছে, অন্যদিকে পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে ৪২০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ক্ষমতার ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক বাস ব্যবহারের ফলে পুরো কার্যকালজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ১৫ লাখ কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, মাসার বিআরটি চালুর মাধ্যমে মক্কায় তীর্থযাত্রীদের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে, পাশাপাশি পবিত্র নগরীতে যানজট ও বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

