ইরানে সরকার পতনের আশঙ্কা: অর্থনীতির ধসে নড়ছে ক্ষমতার ভিত
বিক্ষোভ দমনের মাধ্যমে ইরানের কর্তৃপক্ষ আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। শান্ত পরিস্থিতির আড়ালে পুঞ্জীভূত জনক্ষোভ এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে এক বিপজ্জনক সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ মনে করেন, বর্তমান স্থিতাবস্থা কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না এবং যথাযথ সংস্কার না হলে দেশটির পতন অনিবার্য হয়ে উঠবে।
ইরানের বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে অর্থনীতির চরম বিপর্যয়। গত এক দশকে মুদ্রার মানের রেকর্ড পতন, তেল রপ্তানি হ্রাস এবং ৪০ শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও পানির সংকট যোগ হয়েছে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যারা ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং মধ্যপ্রাচ্যে সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির জন্য মার্কিন শর্ত পূরণ করা কঠিন হলেও লেবাননের হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন এবং ইসরাইলের সরাসরি হামলার কারণে তাদের পুরনো নীতি পুনর্মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শাবানির মতে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা সরকারের বৈধতার মূল ভিত্তি ছিল, যা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া, ইরান ধর্মীয় নেতৃত্ব থেকে সামরিক নেতৃত্বে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খামেনির পর ইরানের বর্তমান অবস্থা টিকবে না এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো আমূল পরিবর্তন কিংবা গণঅভ্যুত্থান—যেটাই হোক, বড় ধরনের পরিবর্তন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

