আবুধাবিতে ইউক্রেন-রাশিয়ার সংলাপ, আগামী সপ্তাহে ফের বৈঠক
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনাকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। আবুধাবিতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির এক কর্মকর্তা। শনিবার ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সদ্য সমাপ্ত আলোচনার ধারাবাহিকতায় আগামী সপ্তাহে উভয় পক্ষ পুনরায় মিলিত হওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তিনি মনে করেন, সংঘাতের এই পর্যায়ে সবাইকে এক ছাদের নিচে আনা সত্যিই একটি বড় অর্জন এবং এটি ইতিবাচক অগ্রগতির প্রমাণ।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক আগ্রাসনের পর থেকে তিন পক্ষের—ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাংবাদিকদের পাঠানো এক ভয়েস নোটে তিনি জানান, দীর্ঘদিন পর এমন ফরম্যাটে তিন পক্ষের আলোচকরা বৈঠকে বসেছেন এবং কিয়েভের প্রতিনিধি দল তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন।
রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর প্রধান অ্যাডমিরাল ইগর কস্ত্যুকভ। এর মাধ্যমে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য রাজনৈতিক বিষয়ের চেয়ে সামরিক প্রসঙ্গই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। অন্যদিকে, জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ইউক্রেন বর্তমানে কঠিন শীত মোকাবিলা করছে এবং পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণেও দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন।
যদিও আলোচনা শুরু হয়েছে, ক্রেমলিন ইউক্রেনের ভূখণ্ড ইস্যুতে এখনও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভের ওপর চাপ থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো যুদ্ধবিরতি ঘটাতে সক্ষম হবেন কিনা তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তবে দুই পক্ষের এই সরাসরি যোগাযোগ শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি আশার আলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

