দোনেৎস্ক নিয়ে অচলাবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন, শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ভূখণ্ডগত সমস্যার সমাধান ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তিই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ক্রেমলিনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। গত শুক্রবার মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর এই মন্তব্য আসে। সমঝোতার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দোনেৎস্কের নিয়তি। পুতিন প্রশাসন ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে ওই অঞ্চলের বাকি প্রায় ২০ শতাংশ বা ৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো অবস্থাতেই পুতিনকে এই ভূখণ্ড উপহার দেবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দোনেৎস্কের পশ্চিমাঞ্চলে স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো দুর্গের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল হারালে রাশিয়ার পক্ষে দনিপ্রো নদী পার হয়ে সহজেই ইউক্রেনের গভীরে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে, যা কিয়েভের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
২০২২ সালে রাশিয়া দোনেৎস্ককে নিজেদের সাথে সংযুক্ত করার ঘোষণা দিলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা স্বীকার করেনি। যুদ্ধের এই পর্যায়ে বাখমুতের মতো রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান গতিতে চললে মস্কোর পক্ষে পুরো দোনেৎস্ক দখল করতে আরও এক বছর সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, এই অঞ্চলের প্রচুর কয়লা ও বিরল খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ উভয় নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

