দোনেৎস্ক নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হলে ভূখণ্ডগত বিরোধের সমাধান অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক শীর্ষ সহকারী। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, দোনেৎস্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির পথ রুদ্ধ। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়ার কাছে এক ইঞ্চি মাটিও উপহার হিসেবে দিতে প্রস্তুত নন।
বর্তমান সংঘাতের মূল কেন্দ্রে রয়েছে ডনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্ক। রাশিয়া দোনেৎস্কের এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ২০ শতাংশ বা পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো দুর্গনগরীগুলো হারালে মস্কোর জন্য দনিপ্রো নদী পার হয়ে পশ্চিমে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। জেলেনস্কি আশঙ্কা করছেন, এই অঞ্চল হারালে রাশিয়া ভবিষ্যতে এটিকে সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
পরিস্থিতি উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সময়সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণে সমাধানের পথ কঠিন হয়ে রয়েছে। কয়লা ও বিরল খনিজ সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান হারে অগ্রগতি হলে রাশিয়ার পুরো দোনেৎস্ক দখল করতে আরও অন্তত এক বছর লাগতে পারে। পুতিন একে ঐতিহাসিক রুশ ভূমি হিসেবে দাবি করলেও জেলেনস্কি একে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বলে মনে করছেন, যা উভয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

