ব্রিকস মহড়ায় ইরান: দক্ষিণ আফ্রিকায় বিপত্তি, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের যৌথ নৌমহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক সংকট। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোকে মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এর জেরে দক্ষিণ আফ্রিকার রপ্তানি পণ্যের ওপর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন এবং দেশটির ওপর বিদ্যমান সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৯ থেকে ১৬ জানুয়ারি সাইমন’স টাউন নৌঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ মহড়ায় চীন, রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইরানও অংশ নেয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি ম্যাভেরিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির আশঙ্কায় ৯ জানুয়ারিই তেহরানকে মহড়া থেকে সরে যেতে বলেছিলেন রামাফোসা। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে তিনটি ইরানি যুদ্ধজাহাজকে জলসীমায় অবস্থান করতে দেয়। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অমান্যের কারণ খুঁজে বের করতে গত ১৬ জানুয়ারি একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বোর্ড গঠন করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাঞ্জি মোৎশেগা এবং আজ শুক্রবার এর প্রতিবেদন জমা পড়ার কথা রয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। ইরানকে স্বাগত জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ববাসীর কাছে ন্যায়বিচারের কথা বলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছে ট্রাম্প শিবির। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে শ্বেতাঙ্গ কৃষকদের ওপর কথিত নিপীড়ন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করার কারণেও ওয়াশিংটন এবং প্রিটোরিয়ার সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। ভারত এই মহড়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও বাকি দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

