ট্রাম্পের মন্তব্য: দেশের স্বার্থে মাঝে মাঝে স্বৈরশাসক প্রয়োজন
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘স্বৈরশাসক’ বলে দাবি করে নতুন আলোচনার ঝড় তুলেছেন। গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে মাঝে মাঝে একনায়কতন্ত্রের মতো শাসন পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। তার ভাষ্য, সমালোচকরা তাকে ভয়ঙ্কর স্বৈরাচারী হিসেবে আখ্যায়িত করেন বলেই তিনি এই পরিচয় মেনে নিচ্ছেন।
নিজের এই মতামতের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প ব্যাখ্যা করেন, তার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই মূলত সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান থেকে উদ্ভূত। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি ফক্স নিউজকে জানিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনটি তিনি একনায়কের মতোই পরিচালনা করবেন। এছাড়া ২০২৫ সালের আগস্টে ওয়াশিংটনে কঠোর কেন্দ্রীয় শাসন জারি করার সময়ও মার্কিন জনগণ সম্ভবত একজন স্বৈরশাসককেই পছন্দ করবে—এমন ইঙ্গিত তিনি দিয়েছিলেন। বিশ্বনেতাদের মধ্যে তিনি পুতিন, শি জিনপিং এবং কিম জং উনের মতো শক্তিশালী নেতাদের প্রায়শই প্রশংসা করে থাকেন।
দাভোস সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ড দখল ও ইউরোপ-কানাডাকে দেওয়া হুমকি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) তিনি তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন। বিরোধী দেশগুলোর ওপর থেকে অবিলম্বে শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহার করে তিনি জানিয়েছেন, আর্কটিক দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমঝোতা চুক্তি হতে পারে।
ট্রাম্পের এই পিছু হটার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও আটলান্টিক অঞ্চলের মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তার এমন দ্বন্দ্বমূলক মনোভব ও পরিবর্তনশীল নীতি নিয়ে বিশ্বনেতারা সতর্ক অবস্থানেই রয়েছেন।

