বিজ্ঞাপন

ভারতে বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৪ এএম
ভারতে বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

গত ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সম্মেলনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। ‘ভারত জোড়ো অভিযান’, ‘পিইউসিএল’ এবং ‘এনএপিএম’-এর আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, গুজরাট, উত্তর প্রদেশসহ আটটি রাজ্যের মানুষের হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের মাধ্যমে চলা ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার নামে লাখ লাখ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জুরি বোর্ডের কাছে সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত কাগজপত্রের দাবি এবং ২০০৩ সালের পুরনো তালিকার সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখার কারণে দরিদ্র, ভাসমান এবং স্থায়ী ঠিকানাহীন মানুষরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র অবস্থানরত কৃষিশ্রমিকদের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। ছত্তিশগড়ের বস্তারে ‘সালওয়া জুডুম’ মিলিশিয়ার সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত প্রায় ৩ লাখ মানুষ ভোটার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাবেক বিধায়ক মণীশ কুঞ্জাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ওই অঞ্চলে প্রায় দেড় লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। এছাড়া গুজরাট, উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বস্তি উচ্ছেদের পর তাদের ‘অবৈধ বাসিন্দা’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হচ্ছে না। জবলপুরে ১৯৮৪ সাল থেকে ভোটার থাকা সত্ত্বেও ১৫০ জনকে ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একইসাথে তামিলনাড়ুর বনাঞ্চলের আদিবাসী এবং বড় শহরের বস্তিবাসীরাও এই প্রক্রিয়ার শিকার হচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চবিত্ত এলাকার তুলনায় বস্তিবাসীদের ভোটার হওয়ার হার অনেক কম। এই সংশোধন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কারণ বিএলও কর্মকর্তাদের ওপর অত্যধিক কাজের চাপে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। অভিবাসী, সংখ্যালঘু এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রবণতা গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন
শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...