বিশেষ সংশোধনে ভারতে কোটি মানুষের ভোটাধিকার হুমকির মুখে
গত ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক জাতীয় সম্মেলনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর কর্মসূচির অপব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরেছেন জুরি বোর্ড সদস্যরা। বুথ লেভেল কর্মকর্তাদের (বিএলও) মাধ্যমে চলা এই প্রক্রিয়ায় নথিপত্রের জটিলতা ও অযৌক্তিক আচরণে লাখ লাখ মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন।
সম্মেলনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের কৃষিশ্রমিকরা জীবিকার তাগিদে অন্যত্র থাকায় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ছত্তিশগড়ের বস্তারে সালওয়া জুডুমের সহিংসতায় বাস্তুচ্যুত প্রায় তিন লাখ মানুষ ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। সাবেক বিধায়ক মণীশ কুঞ্জাম জানিয়েছেন, ৬৪৪টি গ্রাম ধ্বংস হওয়ার পরও বিএলওদের উদাসীনতায় সেখানকার প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার ভোটার তালিকাচ্যুত হতে পারেন। নথিপত্র হারিয়ে যাওয়া এবং ২০০৩ সালের পুরনো তালিকার সঙ্গে যোগসূত্রের অভাবে অভিবাসী ও দরিদ্ররা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের কারণেও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন অনেকে। গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটারদের বস্তি উচ্ছেদ ও ‘অবৈধ বাসিন্দা’ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। আহমেদাবাদের আকবরনগর বস্তি উচ্ছেদের পর হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও যোগী আদিত্যনাথের সরকার পুনর্বাসন না করে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে ১৯৮৪ সাল থেকে ভোটার হওয়া প্রায় ১৫০ জনকে ‘রোহিঙ্গা’ বা ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বস্তিবাসীদের তুলনায় ধনী এলাকায় ভোটার হওয়ার হার অনেক বেশি।
সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের এই সংশোধন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএলওদের আত্মহত্যা ও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া চললেও সাধারণ মানুষের নাম হারানোর ঘটনা থামছে না। নথিপত্রের অতিরিক্ত জোর দিয়ে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে দিয়েছে, এভাবে চললে ভারতের গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও সর্বজনীন ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়বে।

