অর্থনীতির বাস্তবতায় সংকটে নির্বাচনী ইশতেহারের বুলন্দ প্রতিশ্রুতি

প্রাইম বার্তা অনলাইন
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১:৪১ পিএম
অর্থনীতির বাস্তবতায় সংকটে নির্বাচনী ইশতেহারের বুলন্দ প্রতিশ্রুতি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বেকারত্ব দূরীকরণ, সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা এবং সুদমুক্ত ঋণের মতো জনপ্রিয় ইস্যু সামনে এনে তারা নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করলেও, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজস্ব ঘাটতির কারণে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ অর্থনীতিবিদরা।

২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩.৫ শতাংশ, যা সংখ্যায় প্রায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার। এই পরিসংখ্যান সামনে রেখে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান এবং ৪০ লাখ পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একইসাথে জামায়াতে ইসলামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন যুবককে কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়েছে। এছাড়াও জামায়াত বেকারদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের হার্ভার্ড বা অক্সফোর্ডে পড়ার সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশে নেমে আসা এবং কর আহরণের হার ৭ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা খাতে জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও বিএনপির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হলে তা দ্বিগুণ করতে হবে। অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ম্যাক্রো ইকোনমিতে স্থিতিশীলতা আনলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তেমন পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, সুষ্ঠ কর্মসংস্থান বাজার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করে কেবল আকর্ষণীয় ঘোষণা দিলে তা নির্বাচনী প্রলোভনে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...