সরকার পরিবর্তন হলেও চীনের সাথে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার তাগিদ
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি জানান, দেশে নতুন সরকার গঠিত হলেও ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়।
বৈঠকে চীনের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী এবং স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী অধ্যাপক সিন-ইউয়ান ফু প্রধান উপদেষ্টার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া, বিশ্বের ২২টি দেশে টিকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র শীর্ষ কর্মকর্তারা বাংলাদেশে পিসিভি এবং এইচপিভি টিকার স্থানীয় উৎপাদন শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, স্বাস্থ্যখাতই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে তার সাক্ষাৎ এবং ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি দেখেছেন কীভাবে তার লেখা বই এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ধারণা সেখানকার মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, যা তাকে অত্যন্ত আনন্দিত করেছে। ড. ইউনূস বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন, তবে রাজনৈতিক পরিবর্তন নির্বিশেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চলমান অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল খাতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকা অপরিহার্য। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিতে দক্ষতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

