ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ৭৮৭ জন নিহত, কুয়েতে মার্কিন সেনার মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র এবং দখলদার ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই আগ্রাসনের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। এর জেরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং পাল্টা জবাবে তেহরান মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানতে শুরু করেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানে অন্তত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলায় একাই ১৬৫ জন শিশু ছাত্রী প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, একটি প্রজেক্টাইল তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে কুয়েতের একটি মার্কিন সামরিক অবস্থানে আঘাত হানে। এতে ওই ট্যাকটিক্যাল অপারেশন সেন্টারে ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ আক্রমণই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে মাঝে মাঝে একটি দুটি হামলা লক্ষ্যভেদ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি আসলেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে একটি বিশাল সামরিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করলেও সাংবিধানিক বিশ্লেষকরা ভিন্নমত পোষণ করছেন। হ্যামলাইন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড শুল্টজ ব্যাখ্যা করেন যে, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার একচ্ছত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাৎক্ষণিক হুমকি মোকাবিলায় বাহিনী পরিচালনার ক্ষমতা রয়েছে তার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে আমেরিকা কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা না করেই বড় বড় সংঘাতে জড়িয়েছে। তবে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে। এই সংঘাত আরও বড় রূপ নেবে কি না তা নিয়ে সারা বিশ্বেই উদ্বেগ বিরাজ করছে।

