জেলে ৭০–৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগ এনসিপি নেতার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর জানিয়েছেন, কারাগারে তার ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং শরীরে অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। কীসের ইনজেকশন তা জানার সুযোগ তাকে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তার। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তানভীর জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলার বাদী বগুড়া সদর থানা বিএনপির সভাপতি এইচ এস মাফুতুন আহমেদ খান। ৫ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়। তার ভাষ্য, ৫ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেল ও রিমান্ডে নির্যাতনের পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয়—নির্যাতনের কথা বাইরে বললে পরিবারের সদস্যদের গুম করে ফেলা হবে। তবু সত্য প্রকাশে তিনি আপস করেননি বলে জানিয়ে বলেন, আল্লাহ ছাড়া কাউকে তিনি ভয় পান না।
কারাগারের ভেতরের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তানভীর বলেন, তাকে রাখা হয়েছিল এমন এক সেলে, যেখানে ছিল না আলো, বাতাস, বিদ্যুৎ বা পাখি। ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে অন্য বন্দিদের ভালো খাবার দেওয়া হলেও তাকে দেওয়া হয় দুইদিনের পচা-বাসি খাবার, যা খাওয়ার অযোগ্য ছিল। এতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসকের লেখা ওষুধের বদলে অজানা ওষুধ খেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও জানান, সারাক্ষণ জ্বর থাকলে তাকে ইনজেকশন দেওয়া হতো। একদিন হাত-পা কাঁপলে ইনজেকশন দেওয়ার পর ডান হাত ও ডান পা অবশ হয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসক স্ট্রোকের কথা বললেও কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করে কিছুই হয়নি। সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট জানার সুযোগ পাননি তিনি, আর এমআরআই করার কথা বলা হলে জানানো হয় শহীদ জিয়া মেডিকেলের এমআরআই মেশিনটি নষ্ট।
অসুস্থতার কারণে মুখে বক্তব্য রাখতে না পারায় তানভীরের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত। লিখিত বক্তব্যে তানভীর দাবি করেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ও সরকারের মধ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলের কালো ছায়া আগের মতোই রয়ে গেছে; জেলে গিয়ে তার সরাসরি প্রমাণ পেয়েছেন তিনি। কারারক্ষীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগঘেঁষা, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বলে দাবি করে তিনি জানান, তারা তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করত; আশপাশের অনেক বন্দিও আওয়ামী লীগের আসামি। জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সত্যটি জাতির সামনে তুলে ধরতেই নিজেকে প্রকাশ্যে এসেছেন বলে জানান এই এনসিপি নেতা।

