তিন ইস্যুতে মুখোমুখি ট্রাম্প-শি জিন পিং, শুরু রুদ্ধদ্বার বৈঠক
হোয়াইট হাউসে মুখোমুখি বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিন পিং। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া রুদ্ধদ্বার দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকের কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি বিষয় — নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি। তবে এর বাইরেও নানা আনুষঙ্গিক প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানা গেছে।
বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউসে আয়োজন করা হয় জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান। এসময় আকাশে উড়ে যায় একটি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান এবং এফ-২২ সদৃশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান। সামরিক ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে দুই দেশের পতাকা প্রদর্শন করা হয়। ওভাল অফিসে প্রথমে একান্ত আলাপে বসেন দুই নেতা, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও চীনা ফার্স্ট লেডি পেং লিইউয়ান। পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিয়ে ক্যাবিনেট রুমে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় অংশ নেন তারা।
আলোচনা শুরুর আগে ট্রাম্প জানান, দুই দেশ কাজ করছে আরও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে, যার মধ্যে মার্কিন কৃষক ও খামারিদের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগও আছে। তার ভাষায়, বৈঠকে উঠবে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও সুপারইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যদিকে শি জিন পিং বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরালো করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, খোলামেলা, গভীর ও ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে অভিন্ন অবস্থান খুঁজে বের করা এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি ও আইন প্রয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে দুই সরকারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন তিনি।
নেতাদের আলোচনা চলার সময় মেলানিয়া ট্রাম্প পেং লিইউয়ানকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট পরিদর্শনে। রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতি শি জিন পিং ও তার স্ত্রীকে আতিথ্য করবেন রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে। উল্লেখ্য, এমন সময়ে হচ্ছে এই বৈঠক, যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতও চলমান। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন শি জিন পিং — এক দশকেরও বেশি সময় পর এটি তার প্রথম মার্কিন সফর। ১৯৭৯ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর তিনিই প্রথম চীনা নেতা, যিনি দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে এলেন; প্রথমবার ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমন্ত্রণে। এর আগে গত মে মাসে চীন সফরে গিয়ে ট্রাম্প ও শি কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে গঠনমূলক চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তোলার নতুন রূপরেখা নিয়ে সম্মত হয়েছিলেন।

