দুই বছর ধরে কিট মেলেনি, অলস পড়ে আছে খুমেকের প্লাটিলেট এফেরেসিস মেশিন

প্রাইম বার্তা অনলাইন
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১:৩৬ পিএম
দুই বছর ধরে কিট মেলেনি, অলস পড়ে আছে খুমেকের প্লাটিলেট এফেরেসিস মেশিন

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) প্লাটিলেট এফেরেসিস মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় কিটের সরবরাহ না থাকায় প্রায় দুই বছর ধরে তা অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। কিটের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় মেশিনটির কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে প্লাটিলেট সংগ্রহে বিড়ম্বনায় পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। ব্যয়বহুল কিট বাইরে থেকে কেনার সামর্থ্য নেই অনেকেরই, আর সরকারি সরবরাহও মিলছে না।

খুমেক প্যাথলজি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা যায়, মেশিনটির বিকল্প হিসেবে সেন্ট্রিফিউজ পদ্ধতিতে রক্ত থেকে প্লাটিলেট আলাদা করা যায়। কিন্তু এক্ষেত্রে মাত্র এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য লাগে চার ব্যাগ রক্ত, আর খরচ ধরা পড়ে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। অথচ এফেরেসিস মেশিনে দাতার শরীর থেকে রক্তের অন্যান্য উপাদানের মধ্য থেকে শুধু প্লাটিলেট নেওয়া সম্ভব। তবে এই কিটের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা। সরকারিভাবে কিট না দেওয়ায় যারা নিজে কিনে আনছেন, তাদের ক্ষেত্রে বাকি সব প্রক্রিয়া হাসপাতাল সম্পন্ন করে দিচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগীর পরিবার চারজন রক্তদাতা জোগাড় করতে গিয়ে নানা কষ্টের মধ্যে পড়ছেন।

খুমেকের প্যাথলজি ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কনসালটেন্ট প্যাথলজিস্ট ডা. এস এম তুষার আলম বলেন, প্লাটিলেট শরীরে রক্তক্ষরণ ঠেকায়। যে রোগীর রক্তক্ষরণ হচ্ছে না, তার প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন থাকে না। পানিশূন্যতা দূর করে শরীরে তরল বাড়লে প্লাটিলেটের মাত্রাও বেড়ে যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই প্লাটিলেট নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রায় দুই বছর কিট না পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে এফেরেসিস কিট সরবরাহ হলে গরিব-অসহায় মানুষকে সহায়তা করা অনেক সহজ হবে।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান জানান, কিট সংকটের বিষয়টি সিএমএস অফিস, মহাপরিচালকের দপ্তর এবং স্থানীয় হাসপাতাল পরিচালকের কাছে জানানো হয়েছে। কিট না থাকায় বিকল্প পদ্ধতিতে সেবা চালু রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক ব্যাগ প্লাটিলেটের জন্য চারজন রক্তদাতা দরকার, যা অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিকভাবে দুর্বল রোগীরা বাইরে থেকে কিট কিনতেও পারছেন না। সরকারি উদ্যোগে কিট সরবরাহ নিশ্চিত হলেই অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...