আল-হিকমাহ ট্রাস্টের উদ্যোগে মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলামের স্মরণে ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে, বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলাম-এর রুহের মাগফিরাত কামনায় আল-হিকমাহ ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং রাজিয়া মুস্তাফা ট্রাস্টের সহযোগিতায় দুই দিনব্যাপী বিশেষ ফ্রি চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উত্তর বালিয়াকান্দিতে এ চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলাম গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ইন্তেকাল করেন। তিনি দীর্ঘদিন বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর স্মৃতিকে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসাসেবা
চক্ষু ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ভিশন আই হাসপাতাল, ঢাকা-এর সহকারী অধ্যাপক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, পেডিয়েট্রিক ও ফ্যাকো সার্জন ডাঃ জামসেদ ফরীদি জামি।
২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পটি পরিচালিত হয়। দুইজন চিকিৎসক ও একজন সাপোর্টিং স্টাফ ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। এছাড়াও রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
দুই দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে সর্বমোট ২৫০ জন চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়।
৩৯ জনের চোখে ছানি ও মাংসবৃদ্ধি শনাক্ত
ক্যাম্পে প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষায় ৩৯ জন রোগীর চোখে ছানি ও মাংসবৃদ্ধিজনিত জটিলতা শনাক্ত করা হয়। শনাক্ত রোগীদের মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলাম-এর পরিবার এবং রাজিয়া মুস্তাফা ট্রাস্টের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় পর্যায়ক্রমে ঢাকার একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
ব্যাপক সাড়া
স্থানীয় পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চক্ষু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চোখের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যেই এই চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
ক্যাম্পে বালিয়াকান্দির স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই রোগী ও তাদের স্বজনদের ব্যাপক উপস্থিতিতে ক্যাম্প প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্য
চক্ষু ক্যাম্পের পৃষ্ঠপোষক এবং বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলাম-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান নূর নেওয়াজ সুমন বলেন,
“আমার বাবা প্রায় এক বছর আগে, গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি বালিয়াকান্দি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার একজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত ও শান্তির জন্য আমরা এই বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের আয়োজন করেছি। মহান আল্লাহ যেন এই সেবামূলক কাজটি তাঁর পক্ষ থেকে কবুল করেন, তাঁকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।”
তিনি আরও বলেন, “এই আয়োজন সফল করতে যেসব চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, আয়োজক ও সহযোদ্ধা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মানুষের উপকারে আসতে পারে—এমন যেকোনো উদ্যোগ বাবার স্মৃতির প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মাধ্যম হয়ে থাকবে।”
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ও সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ সময়মতো চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের বক্তব্য
আল-হিকমাহ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মীর শাহিনুর রফিক শাওন বলেন, “আল-হিকমাহ ট্রাস্টের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। চক্ষু চিকিৎসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
আয়োজনে যারা ছিলেন
উক্ত চক্ষু ক্যাম্প পরিচালনায় ছিলেন আল-হিকমাহ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মীর শাহিনুর রফিক শাওন, ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, কোষাধ্যক্ষ এস. এম. বাকী বিল্লাহ এবং উপদেষ্টা মো. আবুল কালাম আজাদ।
এছাড়াও মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সুমন ইসলাম, নাফিসা মেহজাবীন সেতু, মহিন উদ্দিন, কামাল হোসাইন, মো. কাউছার মিয়া এবং মীর রামজিয়া রফিক ক্যাম্পের সার্বিক আয়োজনে সহযোগিতা করেন।
আয়োজকরা জানান, সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও আল-হিকমাহ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

